স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার (SBI) Annuity Deposit Scheme বিনিয়োগকারীদের মাসিক আয় প্রদান করে। এটি ঝুঁকিমুক্ত, নিশ্চিত রিটার্ন সহ একটি জনপ্রিয় স্কিম। এই নিবন্ধে সুদের হার, ক্যালকুলেশন এবং আবেদন প্রক্রিয়া সহজ ভাষায় জানানো হয়েছে।
SBI Annuity Deposit Scheme কি?
SBI Annuity Deposit Scheme (SBI ADS) হলো একটি বিনিয়োগ স্কিম যা এককালীন বা নিয়মিত বিনিয়োগের মাধ্যমে মাসিক আয়ের সুযোগ দেয়। এটি সরকারি ব্যাঙ্ক দ্বারা পরিচালিত হওয়ায় ঝুঁকিমুক্ত এবং বিনিয়োগকারীদের নিশ্চিত রিটার্ন প্রদান করে।
মূল সুবিধা
- নিশ্চিত রিটার্ন: বিনিয়োগকারীর ভবিষ্যতের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত।
- নিয়মিত আয়: মাসিক আয়ের মাধ্যমে দৈনন্দিন খরচ সামলানো যায়।
- ঝুঁকিমুক্ত বিনিয়োগ: সরকারি ব্যাঙ্ক দ্বারা পরিচালিত।
- যেকোনো বয়সের জন্য: নাবালক থেকে প্রবীণ নাগরিক পর্যন্ত সবাই বিনিয়োগ করতে পারেন।
- মেয়াদ অনুসারে সুদের হার: ২-৩ বছর এবং ৫-১০ বছরের জন্য আলাদা সুদের হার।
- কর সুবিধা: আয়কর সুবিধা পাওয়া যায়।
বয়স ও বিনিয়োগ সীমা
যেকোনো বয়সের ব্যক্তি SBI ADS-এ বিনিয়োগ করতে পারবেন। প্রতিমাসে ন্যূনতম ১০০০ টাকা বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। সর্বোচ্চ সীমা নেই। বিনিয়োগের মেয়াদ ২ বছর থেকে ১০ বছর পর্যন্ত হতে পারে।
SBI Annuity Deposit Scheme সুদের হার
- সাধারণ গ্রাহক: ২-৩ বছরের জন্য ৭%, ৫-১০ বছরের জন্য ৬.৫%
- প্রবীণ নাগরিক: ২-৩ বছরের জন্য ৭.৫%, ৫-১০ বছরের জন্য ৭%
উদাহরণ: ক্যালকুলেশন
ধরা যাক একজন সাধারণ গ্রাহক ১০ লক্ষ টাকা ২ বছরের জন্য বিনিয়োগ করেছেন।
- সুদের হার: ৭%
- প্রতিমাসিক আয়: (১০,০০,০০০ × ৭%) ÷ ১২ = ₹৫,৮৩৩
- ম্যাচুরিটি পরিমাণ: ১০,০০,০০০ + (৫,৮৩৩ × ২৪) = ₹১৪,০০,০০০
প্রবীণ নাগরিক একই ১০ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করলে, প্রতিমাসে ₹৬,২৫০ পাবেন এবং ম্যাচুরিটিতে ₹১৫,০০,০০০ পাবেন।
কিভাবে আবেদন করবেন?
আপনি অনলাইনে SBI-এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে অথবা নিকটতম SBI শাখা থেকে ফর্ম সংগ্রহ করে আবেদন করতে পারেন। প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দিয়ে ডিপোজিট শুরু করতে হবে।
প্রয়োজনীয় নথিপত্র
- আধার কার্ড
- ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট বিবরণ
- ঠিকানা প্রমাণপত্র
- প্রয়োজনমতো পরিচয়পত্র
উপসংহার
SBI Annuity Deposit Scheme একটি নিরাপদ এবং নিশ্চিত রিটার্ন প্রদানকারী বিনিয়োগ বিকল্প। এটি নিয়মিত মাসিক আয়ের সুযোগ দেয় এবং ঝুঁকিমুক্ত। বিনিয়োগের আগে সুদের হার ও মেয়াদ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া জরুরি। বিনিয়োগের আগে একজন আর্থিক উপদেষ্টার সাথে পরামর্শ নেওয়া সবসময় ভালো।







