ধনতেরাসের আগে টানা কয়েক সপ্তাহ ধরে বেড়ে চলেছিল সোনার দাম (Gold Price)। বাজারে এমন গুজবও ছিল যে দাম পৌঁছে যাবে দেড় লাখের ঘরে। ফলে পুজোর মরশুমে সোনা কেনার হিড়িক পড়ে যায়। কিন্তু ধনতেরাস পেরোনোর পর থেকে সোনার দাম ধীরে ধীরে নামতে শুরু করে। কয়েক দিনের মধ্যেই প্রায় ১০,০০০ টাকা কমেছে ১০ গ্রাম সোনার দাম। ফলে অনেকেই ভাবছেন—সোনার দাম কি আরও কমবে? চলুন বিস্তারিত দেখি।
বর্তমান সোনার দাম ও বাজার পরিস্থিতি
কলকাতার বাজারে ৭ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে ২৪ ক্যারেট সোনার দাম ১০ গ্রামে ছিল প্রায় ₹১,২২,৫৮০। ২২ ক্যারেটের দামও কমে দাঁড়িয়েছে ₹১,১২,৩৬০ প্রতি ১০ গ্রামে। সিলভারের দাম কেজিতে ₹১,৫২,৬০০-এ স্থিতিশীল। দীপাবলির পর চাহিদা কিছুটা কমে যাওয়ায় বাজারে স্থিতিশীলতা এসেছে।
সোনার দামের পতনের কারণ
- আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের দাম বৃদ্ধি।
- চীনের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও মার্কিন সুদের হারের প্রভাব।
- দীপাবলি-পরবর্তী সময়ে চাহিদা কমে যাওয়া।
- ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও বৈদেশিক মুদ্রা বাজারের অস্থিরতা।
৬ নভেম্বরের হিসাব অনুযায়ী, কলকাতায় ২৪ ক্যারেট সোনা ১০ গ্রামে ₹১,২১,৪৭০-এ নেমে এসেছে। অক্টোবর মাসে যখন দাম পৌঁছেছিল ₹১,৩২,৭৭০-এ, তখন এত দ্রুত পতন কেউ ভাবেনি। এখন বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ওঠানামা আরও কিছু সপ্তাহ চলতে পারে।
গোপন রিপোর্টে কী বলা হয়েছে?
একটি আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে সোনার দাম ১ লাখ টাকার নিচে নেমে আসতে পারে। এর প্রধান কারণ মার্কিন ফেডের সুদের হার কমানো ও বৈশ্বিক অর্থনীতির অস্থিরতা। ভারতের বাজারে এর প্রভাব পড়বে সরাসরি, কারণ বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সোনা কেনা-বেচা হয় ভারতে।
এই রিপোর্ট বলছে, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ সোনার গড় দাম ₹১,১৫,০০০-এর নিচে থাকবে — যা আগের সর্বোচ্চ দামের তুলনায় প্রায় ১৫% কম।
সোনার দামের ভবিষ্যৎ পূর্বাভাস
বিশেষজ্ঞদের মতে, নভেম্বরের শেষের দিকে আরও এক ধাক্কা নামতে পারে সোনার দামে। তবে দীর্ঘমেয়াদে দাম আবার বাড়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তাই বিনিয়োগকারীদের এখন ঠান্ডা মাথায় সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি।
বিনিয়োগকারীদের করণীয়: Buy, Sell নাকি Hold?
যদি নতুন বিনিয়োগকারী হন
এখনই ধাপে ধাপে সোনা কেনা শুরু করতে পারেন। দাম যখন কম থাকে, তখন বিনিয়োগের সেরা সময় বলে মনে করা হয়। তবে একসাথে বড় অঙ্কের টাকা বিনিয়োগ না করাই ভালো। ইটিএফ (ETF) বা ডিপোজিট স্কিমে বিনিয়োগ করলে ঝুঁকি কম থাকে।
যদি আগেই সোনা কিনে থাকেন
তাহলে এখনই বিক্রি করবেন না। দাম আরও কিছুটা নামতে পারে, তবে তাড়াহুড়ো করে বিক্রি করলে ক্ষতি হবে। বরং বাজারের পুনরুদ্ধার পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। সাধারণত বড় পতনের পর বাজারে পুনরায় উত্থান দেখা যায়।
দীর্ঘমেয়াদী দৃষ্টিভঙ্গি: সোনা কি এখনও নিরাপদ?
সোনা সবসময়ই মুদ্রাস্ফীতির বিরুদ্ধে রক্ষক হিসেবে পরিচিত। তাই দীর্ঘমেয়াদে এটি এখনও নিরাপদ বিনিয়োগ। কিছু রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের শুরুতেই দাম আবার বাড়তে পারে। তাই যাঁরা দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য নিয়ে চলছেন, তাঁদের পোর্টফোলিওতে সোনার অংশ ১০–১৫% রাখা উচিত।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
- প্যানিক সেলিং করবেন না।
- বিনিয়োগ বৈচিত্র্য আনুন (Diversify করুন)।
- বিশেষজ্ঞের পরামর্শে সিদ্ধান্ত নিন।
- বাজার ট্রেন্ড নজরে রাখুন।
উপসংহার
সোনার দামে বর্তমানে পতন দেখা গেলেও এটি বিনিয়োগকারীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদে একটি ভালো সুযোগ হতে পারে। গোপন রিপোর্টে বলা হয়েছে, সোনার দাম ১ লাখের নিচে নামতে পারে, কিন্তু পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনাও রয়েছে। তাই ধৈর্য ধরুন, ধাপে ধাপে বিনিয়োগ করুন এবং ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত থাকুন।








