পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মহিলাদের জন্য চালু করেছেন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প (Lakshmir Bhandar Scheme)। এই প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের প্রায় ২ কোটি মহিলা মাসিক ভাতা পান। শুরুতে ভাতা ৫০০ টাকা ছিল, পরে বাড়ে ১০০০ ও ১২০০ টাকায়। সম্প্রতি গুজব চলছে, পুজোর আগেই ভাতা ১৫০০ ও ১৮০০ টাকায় বাড়ানো হতে পারে। আসুন বিস্তারিত জেনে নিই।
লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের সুবিধা
প্রকল্পের মাধ্যমে মহিলারা প্রতিমাসে নির্দিষ্ট অংকের ভাতা পান। সাধারণ মহিলা ১০০০ টাকা এবং তপসিলি জাতির মহিলা ১২০০ টাকা ভাতা পান। বয়স ২৫ বছর হলে আবেদন করা যায় এবং ৬০ বছরের পর সরাসরি বার্ধক্য ভাতার সুবিধা পাবেন। স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের মাধ্যমে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসা সুবিধাও প্রদান করা হয়।
মুখ্যমন্ত্রীর সাম্প্রতিক ঘোষণা
পূর্ব বর্ধমান জেলার প্রশাসনিক সভায় মুখ্যমন্ত্রী জানান, সম্প্রতি ৭২০০০ নতুন মহিলা প্রকল্পে যুক্ত হয়েছেন। ২৫ বছর থেকে মহিলাদের সারাজীবন লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সুবিধা থাকবে। আগের জমা আবেদনপত্রের ৯০% প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে, বাকি ১০% শীঘ্রই সম্পন্ন হবে।
প্রকল্পে নতুন সংযোজন
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, সবুজ সাথী প্রকল্পের সাইকেল বিতরণ এবং কৃষক বন্ধুর ভাতা দেওয়া সম্পন্ন হয়েছে। শ্রমশ্রী প্রকল্পে মাসে ৫০০০ টাকা পাওয়ার জন্য আবেদন শুরু হয়েছে।
ভাতা বৃদ্ধির সম্ভাবনা
চলতি গুজব অনুযায়ী পুজোর আগে ভাতা ১৫০০ ও ১৮০০ টাকায় বাড়ানো হতে পারে। তবে মুখ্যমন্ত্রী এদিন সরাসরি কোনো ঘোষণা করেননি। এখন পর্যন্ত সরকারী সূত্রে কোনো নিশ্চিত তথ্য নেই। মহিলাদের জন্য এটি আশা জাগানো হলেও, নিশ্চিত তথ্যের জন্য সরকারি ঘোষণা অপেক্ষা করতে হবে।
বয়স ও সুবিধার বিস্তারিত
- ২৫ বছর বয়স থেকে আবেদন করা যাবে।
- ৬০ বছর হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বার্ধক্য ভাতায় যুক্ত হবেন।
- সারা জীবন ধরে মাসিক ভাতা পাওয়া যাবে।
কীভাবে আবেদন করবেন?
প্রকল্পে আবেদন করতে সরকারি ওয়েবসাইট বা স্থানীয় ব্লক অফিসে যোগাযোগ করতে হবে। আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হলে নির্ধারিত ফর্ম জমা দিতে হবে। নির্বাচনিত হলে সরাসরি জানানো হবে। নিয়মিত সরকারি বিজ্ঞপ্তি এবং স্থানীয় অফিসের খবর দেখা জরুরি।
উপসংহার
লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প মহিলাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সহায়তা। পুজোর আগেই ভাতা বৃদ্ধির গুজব আছে, তবে নিশ্চিত তথ্যের জন্য সরকারি ঘোষণার অপেক্ষা করতে হবে। বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের প্রায় ২ কোটি মহিলা উপকৃত হচ্ছেন। প্রকল্পের টাকা বৃদ্ধি হলে আরও বেশি মহিলা সুবিধা পাবেন।







