প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা (PMAY) পশ্চিমবঙ্গে বাংলা আবাস যোজনা নামে চালু। গৃহহীন ও অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল পরিবাররা ১,২০,০০০ থেকে ১,৩০,০০০ টাকা পর্যন্ত অর্থ সাহায্য পেতে পারেন। তালিকা প্রকাশ ও আবেদন প্রক্রিয়া বিস্তারিত এখানে।
বাংলা আবাস যোজনার উদ্দেশ্য
বাংলা আবাস যোজনা গ্রামীণ এলাকার মানুষের জীবনযাত্রা উন্নয়ন করতে কাজ করছে। প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল পরিবারদের পাকা বাড়ি প্রদান করা। ঝড়-বৃষ্টি থেকে সুরক্ষার জন্য এবং স্থায়ী আশ্রয় নিশ্চিত করতে এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ।
কারা আবেদন করতে পারবেন?
- পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে।
- যাদের পাকা বাড়ি নেই, তারা আবেদন করতে পারবেন।
- পারিবারিক বার্ষিক আয় এক লাখ টাকার কম হতে হবে।
- বিপিএল রেশন কার্ড থাকা আবশ্যক।
- বাড়ি নির্মাণের জন্য জমির দলিল থাকা প্রয়োজন।
- প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় যারা আবেদন করেছেন, তারা এই স্কিমে আবেদন করতে পারবেন না।
- সরকারি চাকরিতে থাকলে আবেদনযোগ্য নয়।
- বাড়ি নির্মাণের জন্য কমপক্ষে ২৫ বর্গমিটার জমি থাকা প্রয়োজন।
আর্থিক সহায়তার পরিমাণ
বাংলা আবাস যোজনা স্কিমের মাধ্যমে মোট ১,২০,০০০ টাকা দেওয়া হয়, যা তিনটি কিস্তিতে প্রদান করা হয়:
- প্রথম কিস্তি: ৫০,০০০ টাকা
- দ্বিতীয় কিস্তি: ৪০,০০০ টাকা
- তৃতীয় কিস্তি: বাড়ি নির্মাণ সম্পন্ন হওয়ার পর ১০-২০,০০০ টাকা
সকল অর্থ সরাসরি আবেদনকারীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা হয়।
আবেদন প্রক্রিয়া
বাংলা আবাস যোজনায় আবেদন করতে স্থানীয় পঞ্চায়েত বা বিডিও অফিসে যোগাযোগ করুন। সেখানে আবেদন ফর্ম সংগ্রহ করে সঠিকভাবে পূরণ করুন এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দিন। তালিকা প্রকাশিত হলে নাম থাকলে অর্থ ধাপে ধাপে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা হবে।
প্রয়োজনীয় নথিপত্র
- আধার কার্ড
- বিপিএল রেশন কার্ড
- বার্ষিক আয়ের প্রমাণপত্র
- স্থায়ী বাসিন্দার সার্টিফিকেট
- জমির দলিল বা পর্চা
- সাম্প্রতিক পাসপোর্ট সাইজের ছবি
আবাস যোজনার তালিকা ও টাকা কবে ঢুকবে?
আবেদন যাচাই এবং তালিকা অনুমোদনের পর প্রথম কিস্তি ৬০,০০০ টাকা ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে ব্যাঙ্কে পৌঁছানোর লক্ষ্য রাখা হয়েছে। দ্বিতীয় কিস্তি ৪০-৬০,০০০ টাকা ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি-মার্চ বা মে মাসে, বাড়ি নির্মাণ অগ্রগতির ওপর নির্ভর করে। তৃতীয় কিস্তি বাড়ি সম্পূর্ণ হওয়ার পর প্রদান করা হয়।
উপসংহার
বাংলা আবাস যোজনা পশ্চিমবঙ্গের দরিদ্র ও গৃহহীন মানুষের জন্য আশার আলো। সঠিক নথি এবং যোগ্যতা থাকলে এই প্রকল্পে অংশ নিয়ে স্থায়ী বাড়ি নির্মাণ সম্ভব। তালিকা প্রকাশ ও কিস্তি প্রদান প্রক্রিয়ার মাধ্যমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হয়েছে। আরও আপডেটের জন্য স্থানীয় পঞ্চায়েত বা বিডিও অফিসে যোগাযোগ রাখুন।







