Supreme Court Verdict on Compulsory TET Case: চাকরি হারানো শিক্ষকদের জন্য আশার খবর। ২০২৫ সালের ৩১ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্ট এক ঐতিহাসিক রায়ে জানিয়েছে, যেসব শিক্ষক পরে টেট (TET) পাস করেছেন, তাদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করা যাবে না।
মামলার পটভূমি
২০১১ সালের ৩ জুলাই একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়, যার শেষ তারিখ ছিল ১৬ জুলাই। নির্বাচিত প্রার্থীরা ২০১২ সালের মার্চ মাসে নিয়োগপত্র পান এবং ১৭ মার্চ চাকরিতে যোগ দেন। কিন্তু নিয়োগের সময় তাদের কারও কাছেই টেট সার্টিফিকেট ছিল না।
পরে একজন শিক্ষক ২০১১ সালের নভেম্বর এবং অন্যজন ২০১৪ সালের মে মাসে টেট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। এই কারণে তাদের চাকরি বাতিল করা হয়।
Compulsory TET Case: মূল আইনি বিষয়
২০০৯ সালের শিক্ষার অধিকার আইন (RTE Act 2009) অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ৩১ মার্চের আগে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকরা ২০১৯ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে টেট যোগ্যতা অর্জন করলে তাদের চাকরি বজায় থাকবে।
শিক্ষকরা দাবি করেন যে তারা এই সময়ের মধ্যেই টেট পাস করেছেন, কিন্তু এলাহাবাদ হাইকোর্ট তাদের যুক্তি খারিজ করে দেয়। আদালত বলে যে, নিয়োগের সময় টেট সার্টিফিকেট থাকা বাধ্যতামূলক। ফলে ২০১৮ সালের ১২ জুলাই তাদের চাকরি বাতিল করা হয়।
হাইকোর্টের সিদ্ধান্ত
এলাহাবাদ হাইকোর্টের একক ও বিভাগীয় বেঞ্চ জানায়, প্রাথমিক যোগ্যতা ছাড়া নিয়োগ অবৈধ। শিক্ষকরা যদিও যুক্তি দেন যে তারা সময়মতো টেট উত্তীর্ণ, তবুও হাইকোর্ট তা গ্রহণ করেনি। এই রায় ২০২৪ সালের ১ মে প্রকাশিত হয় এবং পরে তা সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ করা হয়।
সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়
২০২৫ সালের ৩১ অক্টোবর প্রধান বিচারপতি বি. আর. গাভাই ও বিচারপতি কে. বিনোদ চন্দ্রন এর বেঞ্চ মামলাটি শুনে হাইকোর্টের রায় বাতিল করে।
সুপ্রিম কোর্ট জানায়, নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে টেট সার্টিফিকেট অর্জন করলে চাকরি বাতিল করা যাবে না। তাই ২০১৮ সালের বরখাস্তের নির্দেশও রদ করা হয়েছে।
আদালত নির্দেশ দেয় যে চাকরি হারানো শিক্ষকরা অবিলম্বে পুনর্বহাল হবেন এবং চাকরির ধারাবাহিকতা, সিনিয়রিটি ও বেতনের সমস্ত সুবিধা পাবেন।
মূল আইনি ব্যাখ্যা
সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, হাইকোর্ট RTE আইনের ২৩(২) ধারার ভুল ব্যাখ্যা করেছে। আইন অনুযায়ী, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যোগ্যতা অর্জন করলে চাকরি বাতিলের কোনো প্রশ্ন ওঠে না।
এই রায়ে পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছে, প্রাথমিক যোগ্যতা পরে অর্জন করলেও সেটি বৈধ গণ্য হবে। এটি সারা দেশের শিক্ষকদের জন্য এক দৃষ্টান্তমূলক সিদ্ধান্ত।
পশ্চিমবঙ্গে প্রভাব
সংবাদ সূত্রে জানা গেছে, পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৯০,০০০ শিক্ষক এখনো টেট সার্টিফিকেট ছাড়া রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে অনেকেই এই রায়ের আওতায় পড়তে পারেন। ফলে তাঁদের চাকরি নিয়ে অনিশ্চয়তা অনেকটাই কমবে।
ভবিষ্যৎ দিশা ও জাতীয় প্রভাব
এই Compulsory TET Case রায়টি সারা দেশে শিক্ষকদের জন্য একটি নতুন দিশা তৈরি করবে। আরটিই আইনের অধীনে সময়সীমা মেনে চললে চাকরি বাতিল করা যাবে না, এই বিষয়টি এখন পরিষ্কার।
এটি শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও ন্যায্য ও স্বচ্ছ করে তুলবে এবং ভবিষ্যতে অন্যান্য রাজ্যের শিক্ষকরা এই রায় থেকে উপকৃত হবেন।
উপসংহার
সুপ্রিম কোর্টের এই ঐতিহাসিক রায় শিক্ষকদের জন্য নতুন আশার আলো। টেট সার্টিফিকেট অর্জনের নির্দিষ্ট সময়সীমা মেনে চললে চাকরি হারানোর ভয় থাকবে না। এই সিদ্ধান্ত শিক্ষা ব্যবস্থায় ন্যায় ও যোগ্যতার সমন্বয় ঘটিয়েছে, যা ভবিষ্যতের শিক্ষক নিয়োগে নতুন দিশা দেখাবে।








