২০১৬ সাল থেকে চলা পশ্চিমবঙ্গের বকেয়া ডিএ মামলার (DA Case) শুনানি শেষ হলেও রায় ঘোষণায় আবারও জট দেখা দিয়েছে। দীর্ঘ অপেক্ষার পরও সরকারি কর্মীরা এখনও পাচ্ছেন না তাদের বহু প্রতীক্ষিত ডিএ মামলার রায়ের খবর। পুজোর ছুটি শেষ হলেও কোনও ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসেনি। ২০২৫ সালের শেষেও মামলার রায় ঘোষণা হয়নি।
এক নজরে – পশ্চিমবঙ্গের DA মামলার বর্তমান পরিস্থিতি
- ২০১৬ সাল থেকে চলা বকেয়া ডিএ মামলা এখনও নিষ্পত্তি হয়নি
- সুপ্রিম কোর্টে শুনানি শেষ হলেও রায় ঘোষণা স্থগিত
- লাখ লাখ সরকারি কর্মী ন্যায্য পাওনার অপেক্ষায়
- রাষ্ট্রীয় কর্মীরা কেন্দ্রীয় হারে ডিএ না পাওয়ায় ক্ষোভ
কেন এত গুরুত্বপূর্ণ পশ্চিমবঙ্গের ডিএ মামলা?
রাজ্যের লক্ষ লক্ষ সরকারি কর্মী— শিক্ষক থেকে শুরু করে পুলিশ কর্মী পর্যন্ত— সবাই দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন: কবে মিলবে তাদের ন্যায্য মহার্ঘ ভাতা (Dearness Allowance)?
রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ, কেন্দ্রীয় হারের তুলনায় ডিএ অনেক কম দেওয়া হচ্ছে। কেন্দ্র যখন ৫০% পর্যন্ত ডিএ দিচ্ছে, রাজ্যে থাকছে মাত্র ১৪%। তাই ২০১৬ সালে কর্মীরা আদালতের দ্বারস্থ হন। এরপর হাইকোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্টে মামলা চলে বছরের পর বছর।
২০১৬ থেকে ২০২৫— এত বছরের পরেও রায় কেন আসছে না?
ডিএ মামলার শুনানি শেষ হলেও রায় ঘোষণায় কোনও অগ্রগতি নেই।
সুপ্রিম কোর্টের সর্বশেষ খবর
১২ ও ১৩ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ— বিচারপতি সঞ্জয় কারোল এবং পি কে মিশ্র— ডিএ মামলাটি সাপ্লিমেন্টারি কজ লিস্টে রেখেছিলেন। কিন্তু সেদিনও রায় ঘোষণা হয়নি।
এরপর কবে মামলার তারিখ পড়বে, তা জানা নেই। ফলে আপাতত রায় ঘোষণার সম্ভাবনা নেই বলেই মনে করা হচ্ছে।
আনঅফিশিয়াল সূত্র— রায় ঘোষণা আরও দেরি?
আনঅফিশিয়াল সূত্র অনুযায়ী:
- মামলাটি যে দুই বিচারপতির বেঞ্চে রয়েছে, তারা কয়েক মাসের মধ্যেই অবসর নেবেন
- অবসরের আগে রায় ঘোষণা হলে ভালো, তবে সেই সম্ভাবনা কম
- নতুন বিচারপতি এলে পুরনো মামলায় দ্রুত রায় দেন না— অতীতেও এমন উদাহরণ কম
- এর মধ্যে যদি নির্বাচন ঘোষণা হয়, তাহলে রায় আরও পিছিয়ে যাবে
কেন পিছিয়ে যাচ্ছে রায়?
ডিএ মামলাটি অত্যন্ত সংবেদনশীল— কারণ রায় কর্মীদের পক্ষে গেলে রাজ্যের ওপর বিশাল আর্থিক চাপ আসবে। একইসঙ্গে কর্মীরা যদি হেরে যান, তবে আন্দোলন আরও তীব্র হতে পারে।
সম্ভাব্য কারণ
- মামলার আর্থিক প্রভাব অত্যন্ত বড়
- সরকারের দাবি— আর্থিক সংকটের কারণে কেন্দ্রীয় হারে ডিএ দেওয়া সম্ভব নয়
- রাজ্য চাইছে না একবারে সমস্ত বকেয়া তুলে দিতে
- রাজনৈতিক প্রভাবও রয়েছে
রাজ্য সরকারের অবস্থান
সরকার বলছে:
- রাজ্যের আর্থিক অবস্থার কারণে কেন্দ্রীয় হারের ডিএ দেওয়া সম্ভব নয়
- যতটা সম্ভব সুবিধা দেওয়া হচ্ছে
তবে কর্মীরা এই যুক্তি মানছেন না। তাদের দাবি— অন্য রাজ্যগুলো ডিএ দিচ্ছে, তাহলে পশ্চিমবঙ্গ পারবে না কেন?
ডিএ রায় কবে আসবে?
সুপ্রিম কোর্ট কোনও তারিখ জানায়নি। ফলে রায় কবে আসবে তা স্পষ্ট নয়। অনেকেই মনে করছেন— রায় ঘোষণায় আরও সময় লাগবে।
কর্মীদের আশা— রায় দেরি হলেও তাদের পক্ষে যাবে।
কর্মীদের ভবিষ্যৎ লড়াই
ডিএ মামলা শুধু পশ্চিমবঙ্গের নয়— দেশের অন্যান্য রাজ্যের কর্মীদের উপরও এর প্রভাব পড়বে। তাই এই মামলাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
দীর্ঘ অপেক্ষাতেও কর্মীরা হাল ছাড়ছেন না। তাদের বিশ্বাস— ন্যায়বিচার একদিন না একদিন মিলবেই।
উপসংহার
ডিএ মামলার রায় ঘোষণায় জটিলতা বাড়ছেই— শুনানি শেষ হলেও রায় আর প্রকাশিত হচ্ছে না। ২০১৬ সাল থেকে লড়াই করা লক্ষ লক্ষ সরকারি কর্মী আজও অপেক্ষায়। রায় কর্মীদের পক্ষে এলে রাজ্যের ওপর বড় আর্থিক বোঝা আসবে— তাই বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল।
তবুও কর্মীদের আশা— যত দেরি হোক, ন্যায়ের জয় হবেই।







