ব্লগ থেকে আয় করার সঠিক উপায়

ব্লগ থেকে আয় করার সঠিক উপায় বেশিরভাগ মানুষ জানেন না বলেই ব্লগিং করতে এসেও আয় করতে না পেরে হতাশ হয়ে ফিরে যান। অনলাইন ইনকাম আজকের দিনে সত্যিই একটি লোভনীয় বিষয়, কিন্তু অনলাইন ইনকাম করার পথ সবার জন্য সহজ নয়।

ব্লগ থেকে আয়

ব্লগিং শুরু করার আগে বেশির ভাগ মানুষ মনে করেন কয়েকদিন ধরে পছন্দমত ব্লগ পোস্ট করব তারপর ইনকাম শুরু হয়ে যাবে, বিষয়টা কিন্তু মোটেও এত সহজ নয়।

অনলাইন কিংবা অফলাইন আপনি যে মাধ্যম থেকেই ইনকাম করতে চান না কেন সেই মাধ্যমে আপনাকে মনোযোগ সহকারে কাজ করতেই হবে, তবেই আপনি সাফল্য পাবেন।

আপনি যদি লিখতে ভালবাসেন এবং লেখার মত টপিক যদি আপনার হাতে থাকে তাহলেই আপনি ব্লগ থেকে আয় করতে পারবেন।

একটা সময় মানুষ নিজেদের লেখালেখির শখ মেটানোর জন্য ব্লগিং করতো। বর্তমানে প্রচুর মানুষ ব্লগিংকে ফুলটাইম জব হিসেবে বেছে নিয়েছেন। আপনি যদি চাইছেন ব্লগিং থেকে ক্যারিয়ার শুরু করতে চাইছেন তাহলে আপনাকে নিয়মিত উন্নতমানের ব্লগ পোস্ট করতে হবে।

ব্লগিং শুরু করার আগে একটা কথা অবশ্যই মনে রাখবেন ব্লগের আয় নির্ভর করে ব্লগিং-এর টপিকের উপর। যে টপিক সম্পর্কে আপনার ধ্যান ধারনা নেই সেই টপিক নিয়ে কাজ করলে আপনি বেশি দিন কাজ করতেও পারবেন না আগ্রহও পাবেন না। তাই আমি প্রথমেই বলেছি ইনকামের কথা ভুলে গিয়ে ব্লগিং শুরু করুন, পাঠক তৈরি হলেই ইনকাম দেখতে পাবেন।

ব্লগ থেকে আয় করার প্রথম শর্ত হচ্ছে ধৈর্য। আপনাকে ধৈর্য সহকারে ব্লগ পোস্ট করতে হবে এবং সেই ব্লগপোস্ট র‍্যাংক হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

ব্লগ থেকে আয় করার দুটি সহজ উপায়

বর্তমানে ব্লগ থেকে আয় করার অনেক মাধ্যম রয়েছে তার ভিতরে সবচেয়ে জনপ্রিয় দুটি মাধ্যম হচ্ছে বিজ্ঞাপন আর এফিলিয়েট মার্কেটিং। বিশ্বের বড় বড় ব্লগাররা এই দুই মাধ্যম থেকেই তাঁদের ৯০% র বেশি ইনকাম করে থাকেন।

  • বিজ্ঞাপন:- 

ব্লগ থেকে আয় করার যে দুটি সহজ উপায় সবাই অবলম্বন করে থাকেন তার প্রথমটি হলো বিজ্ঞাপন। আপনি আপনার ব্লগ এ বিজ্ঞাপন চালিয়ে প্রতি মাসে কয়েক হাজার থেকে কয়েক লাখ টাকা পর্যন্ত ইনকাম করতে পারবেন।

ব্লগে বিজ্ঞাপন দেওয়ার সবচাইতে জনপ্রিয় মাধ্যম হচ্ছে গুগল এডসেন্স। ব্লগে বিজ্ঞাপন দেওয়ার বিকল্প হিসেবে গুগল এডসেন্স এর সমকক্ষ কোনও বিজ্ঞাপন কোম্পানি নেই।

তবে গুগল এডসেন্স এর বিকল্প হিসেবে বাজারে আরো অনেক বিজ্ঞাপনদাতা কোম্পানি রয়েছে যারা উন্নত মানের বিজ্ঞাপন দিয়ে থাকে। উদাহরণস্বরূপ তাবোলা কিংবা এমজিআইডির নাম নেওয়া যেতে পারে।

  • এফিলেট মার্কেটিং:-

ব্লগে বিজ্ঞাপন দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আপনি এফিলিয়েট মার্কেটিং থেকেও প্রচুর টাকা ইনকাম করতে পারেন।

আপনি কোনও প্রোডাক্টের সরাসরি এফিলিয়েট লিংক শেয়ার করে ইনকাম করতে পারেন কিংবা কোনও প্রোডাক্টের রিভিউ করে এফিলিয়েট লিংক দিয়ে ইনকাম করতে পারেন।

এফিলিয়েট মার্কেটিং এর জন্য আপনি অ্যামাজন, ফ্লিপকার্ট, ইবে এই ধরনের কোম্পানির সঙ্গে সরাসরি এফিলিয়েট মার্কেটার হিসেবে কাজ করতে পারেন কিংবা ম্যাক্সবাউন্টি, জেভিজু-র মতো এফিলিয়েট কোম্পানির সঙ্গেও যুক্ত হতে পারেন।

ব্লগ থেকে আয় করার সঠিক উপায়

* ব্লগ থেকে আয় করার অন্যান্য মাধ্যম

আমি আগেই বলেছি ব্লগ থেকে আয় করার প্রচুর মাধ্যম রয়েছে। বিজ্ঞাপন আর এফিলিয়েট মার্কেটিং ছাড়াও আরো কয়েকটি উপায়ে আমি বলতে পারি যেগুলো থেকে আপনি খুব সহজে ব্লগিং করে ইনকাম করতে পারবেন।

  • অ্যাপ্লিকেশন ডাউনলোড:-

বর্তমান প্রযুক্তির যুগে প্রতিদিন হাজার হাজার অ্যাপ্লিকেশন প্লে স্টোরে আপলোড হচ্ছে। এই অ্যাপ্লিকেশনগুলোর ভেতর এমন অনেক এপ্লিকেশন থাকে যেগুলো নিজের রেফারেল থেকে অন্যকে ডাউনলোড করানোর জন্য ভালো রকমের টাকা দেয়।

যখন কোনও কোম্পানি তাদের মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন লঞ্চ করে তখন তারা অন্যকে রেফারেল দিয়ে ডাউনলোড করানোর জন্য ভালো রকমের টাকা ইনভেস্ট করে। আপনি চাইলে সেই সমস্ত অ্যাপ্লিকেশন গুলোকে খুঁজে খুঁজে তার রিভিউ করে আপনার নিজের রেফারেল লিংক থেকে ডাউনলোড করতে পারেন।

Best earning application 2020 এই লিংকে গেলে আপনি তেমনই একটি জেনুইন অ্যাপ্লিকেশনের সন্ধান পাবেন যা ডাউনলোড করিয়ে আপনি প্রতিদিন প্রচুর টাকা ইনকাম করতে পারবেন।

  • রিসেলিং:-

অনেকেই এফিলিয়েট মার্কেটিং এর সঙ্গে রিসেলিংকে গুলিয়ে ফেলে। রিসেলিং আর এফিলিয়েট মার্কেটিং মোটেও এক জিনিস নয়।

রিসেলিং করা আর এফিলিয়েট মার্কেটিং করা এই দুটোর ভেতর প্রধান পার্থক্য হচ্ছে ইনকামের। একটি এফিলিয়েট প্রোডাক্ট বিক্রি করার জন্য আপনি কত পারসেন্ট কমিশন পাবেন তা সেই কোম্পানি নির্ধারণ করে দেয়। কিন্তু রিসেলিং করার সময় প্রফিট মার্জিন পুরো আপনার হাতে নির্ভর করবে।

ধরুন একটি প্রোডাক্ট এর দাম 100 টাকা, মানে মিনিমাম 100 টাকাতে আপনাকে একটি প্রোডাক্ট বিক্রি করতে দিয়েছে কোম্পানি এরপর আপনি কত বেশি টাকায় প্রোডাক্ট বিক্রি করতে পারবেন সেটা আপনার ব্যাপার। আপনি যদি প্রোডাক্টটি 500 টাকায় বিক্রি করেন তাহলে আপনার প্রফিট থাকছে 400 টাকা।

বর্তমানে অনেকেই এফিলিয়েট মার্কেটিং ছেড়ে দিয়ে রিসেলিং শুরু করেছে অনেক বেশি প্রফিট হয় বলেই।

কিরকম ভাবে রিসেলিং করতে হয় বা কোন কোম্পানি সবচেয়ে ভালো রিসেলিং প্রোডাক্ট দিয়ে থাকে আপনি যদি জানতে চান তাহলে নিচের লিংকে যেতে পারেন।

রিসেলিং করে ইনকাম করার উপায়

কোন ধরনের ব্লগ থেকে সবচাইতে বেশি আয় হয়

আমি এই পোষ্ট লেখার শুরুতেই বলেছি, আপনাকে যদি ব্লগিং প্ল্যাটফর্ম এ টিকে থাকতে হয় তাহলে আপনাকে নিজের পছন্দের বিষয় অর্থাৎ যেটা আপনি ভাল জানেন সেই টপিকের উপরেই ব্লগিং করতে হবে।

কিন্তু আমি আপনার সুবিধার জন্য বেশ কয়েকটি ক্যাটাগরি বলছি যে ক্যাটাগরি গুলোতে যদি আপনি ব্লগিং করতে পারেন তাহলে আপনি প্রতিমাসে ভালো পরিমাণে টাকা আয় করতে পারবেন।

  1. ইন্সুরেন্স
  2. অনলাইন ইনকাম
  3. হেলথ টিপস বা বিউটি টিপস
  4. ব্লগিং
  5. ট্রাভেল

১) ইন্সুরেন্স:-

বিভিন্ন ধরনের ইন্সুরেন্স কোম্পানির ইন্সুরেন্স পলিসি নিয়ে যদি আপনি ব্লগিং করেন তাহলে আপনি মান্থলি প্রচুর টাকা ইনকাম করতে পারবেন যা আপনার কল্পনার বাইরে। আপনি ইন্সুরেন্স ক্যাটাগরির ভেতর লাইফ ইন্সুরেন্স, কার ইন্সুরেন্স, বাইক ইন্সুরেন্স যে কোনও একটা ছোট ক্যাটাগরিকে বেছেও ব্লগিং করতে পারেন।

বেশিরভাগ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি তাদের কাস্টমার বাড়ানোর জন্য প্রচুর পরিমাণে অর্থ বিজ্ঞাপনে খরচা করে থাকে। তাই ইন্সুরেন্স ক্যাটাগরিতে কাজ করলে আপনি গুগল এডসেন্স এর সিপিসি অনেক বেশি পাবেন।

২) অনলাইন ইনকাম

আপনি যদি অনলাইনে ইনকাম করার মাধ্যমগুলো কি কি এবং কিভাবে অনলাইন ইনকাম করা যায় তার উপরে একটি ব্লগ বানান তাহলেও আপনি অনেক টাকা ইনকাম করতে পারবেন।

৩) হেলথ টিপস বা বিউটি টিপস 

হেলথ টিপস বা বিউটি টিপস এর উপর ব্লগ বানিয়ে বিভিন্ন রকম ভাবে ইনকাম করা যায়।

গুগল এডসেন্স থেকে সরাসরি বিজ্ঞাপন নিয়ে যেমন ইনকাম করা যায় সেই রকম বিভিন্ন বিউটি প্রোডাক্টের কোম্পানিগুলি নিজেরাই ব্লগারদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিভিন্ন প্রোডাক্ট কে প্রমোট করিয়ে থাকে।

হেলথ টিপস বিউটি টিপস এর উপর যে ব্লগ বানানো হয় সেই ব্লগে এডসেন্স ভালো দামি বিজ্ঞাপন চালিয়ে থাকে। কারণ বিজ্ঞাপনদাতার সংখ্যা এই টপিকে সবচাইতে বেশি।

এই টপিক এর উপর ব্লগ বানিয়ে আপনি রিসেলিং করতে পারবেন সবচাইতে ভালো।

৪) ব্লগিং

অন্যকে ব্লগিং শেখানোর জন্য যদি আপনি ব্লগ বানিয়ে থাকেন তাহলেও আপনি প্রচুর টাকা ইনকাম করতে পারবেন এখানে আপনার ইনকামের সোর্স হবে একাধিক।

যে সমস্ত ব্লগার অন্যকে ব্লগিং শেখায় তারা গুগল এডসেন্স থেকেও দামি অ্যাড পেয়ে যায় আবার বিভিন্ন হোস্টিং কোম্পানির হোস্টিং সেল করে তারা এফিলিয়েট মার্কেটিং এর মাধ্যমে প্রচুর টাকা ইনকাম করে।

আপনি জানলে হয়তো অবাক হবেন বেশিরভাগ হোস্টিং কোম্পানি একটি হোস্টিং এক বছরের জন্য সেল করলে 100 ডলারের বেশিও টাকা দিয়ে থাকে।

হোস্টিং ছাড়াও ওয়ার্ডপ্রেসের থিম, প্লাগিন আরো অনেক কিছু সেল করা যায়।

৫) ট্রাভেল

যারা ভ্রমণপিপাসু তারা যদি ট্রাভেল ব্লগিং করেন তাহলে ট্রাভেল ব্লগিং থেকে তারা বিভিন্ন রকম ভাবে ইনকাম করতে পারবেন।

ট্রাভেল ব্লগিং থেকে গুগল এডসেন্স এর মাধ্যমে দামি বিজ্ঞাপন পাওয়া যায়।

ট্রাভেল ব্লগারদেরকে বিভিন্ন ট্রাভেল এজেন্সি বিজ্ঞাপন দিয়ে থাকে, বিজ্ঞাপন দিয়ে থাকে বড় বড় হোটেল গুলি।

আপনি যদি ব্লগিং নিয়ে ইন্টারেস্টেড হন তাহলে আপনি ইউটিউব থেকে বিভিন্ন ভিডিও দেখে ব্লগিং শিখতে পারবেন কিংবা আমাদের ব্লগিং সাইট বাংলাব্লগার.ইন থেকেও বাংলায় ব্লগিং এর খুঁটিনাটি শিখতে পারবেন।

ঘরে বসে অনলাইন আয় করার জন্য ব্লগিং হচ্ছে সবচাইতে জনপ্রিয় মাধ্যম। আপনি যদি ভালভাবে ব্লগিং রপ্ত করে নিতে পারেন এবং আন্তরিকতার সঙ্গে ব্লগিং করে যান তাহলে একবছর পরেই আপনি একজন সরকারি চাকরিজীবীর মতোই ইনকাম করতে পারবেন।

ব্লগিং শুরু করার আগে একটা কথা অবশ্যই মনে রাখবেন ব্লগিং হচ্ছে বুদ্ধি আর কিওয়ার্ড এর খেলা।ব্লগিং করার সময় আপনাকে মনে রাখতে হবে, যে বা যারা আপনার পোস্ট পড়ছে তারা যেন আপনার পোস্ট পড়তে গিয়ে কোন ভুল তথ্য না পায় বা বোরিং ফিল না করে।

☛ এই আর্টিকেলটি সম্পর্কে বা ব্লগিং সম্পর্কে আপনার যদি কোনরকম জিজ্ঞাসা থেকে থাকে তাহলে আপনি নির্দ্বিধায় আমাদের কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করে আপনার প্রশ্ন রাখতে পারেন। আমরা আপনার প্রত্যেকটি প্রশ্নের যথাযথ উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব।

★★★ আপনি কি অটল পেনশন যোজনার সঙ্গে নিজের নাম নথিভুক্ত করিয়েছেন ? যদি এখনো পর্যন্ত আপনার নাম নথিভুক্ত করান নি তাহলে এক্ষুনি নাম নথিভুক্ত করে নিন।

অটল পেনশন যোজনা 

One thought on “ব্লগ থেকে আয় করার সঠিক উপায়

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *