কন্যাশ্রী প্রকল্প কী বিস্তারিত ভাবে জানুন

কন্যাশ্রী প্রকল্প – ২০১১ মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষমতায় আসার ২ বছর পর অর্থাৎ ২০১৩ সালে kanyashree Prakalpa চালু করেন। এই প্রকল্পের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল অনুর্ধ ১৯ বছরের কন্যাদের বিবাহ রোধ করা।

কন্যাশ্রী প্রকল্প সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন (History of Kanyashree Prakalpa)

Kanyashree Prakalpa in Bengali

২০১১ সালে ক্ষমতায় আসার পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লক্ষ্য করেন পশ্চিম বাংলায় ৫৫% এর বেশি মেয়েদের বিবাহ হয়ে যায় ১৮ বছরের নিচেই। গ্রামে এর পরিমান ৫৮%।

মেয়েদের শিক্ষার হারও যথেষ্ট কম। মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী বুঝতে পারলেন নারীশিক্ষায় বিস্তার আর বাল্যবিবাহ রোধ যদি একসঙ্গে করতে হয় তাহলে এমন প্রকল্প আনতে হবে যাতে দুটো কাজেই হয়।

নারী শিক্ষার বিস্তার আর বাল্যবিবাহ রোধ যদি না করা যায় তাহলে পরবর্তী প্রজন্ম শিক্ষায় স্বাস্থে দুদিকেই অপুষ্ট হয়ে জন্মাবে। সন্তানের স্বাস্থ্য ও শিক্ষায় দুটোতেই মায়ের অবদান সবচাইতে বেশি। তাই মাকে হতে হবে সুশিক্ষিত এবং সুস্বাস্থ্যবতী।

২০১৩ সালে শুরু হল মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এক নতুন লড়াই শুরু হল কন্যাশ্রী প্রকল্প।

কন্যাশ্রী প্রকল্পে কত টাকা দেওয়া হবে? কারা পাবে? / Kanyashree Prakalpa amount

২০১৩ সালে মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছিলেন যে সমস্ত পরিবারের বাৎসরিক ইনকাম দেড় লক্ষ টাকার কম সে সমস্ত পরিবারের ১৩ থেকে অনূর্ধ্ব ১৯ বছরের মেয়েরা একবারের জন্য ২৫০০০ টাকা করে পাবে, যদি তারা পঠনপাঠন বন্ধ না করে। Kanyashree prakalpa fixed amount 25000 rupees.

আরও পড়ুনঃসুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনা

২০১৮ সালে কন্যাশ্রী প্রকল্প ৫ বৎসর পূর্ণ করার সময় মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় ঘোষণা করেন শুধুমাত্র আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া ঘরের মেয়েরাই নয় পশ্চিমবাংলা সমস্ত মেয়েরাই এই প্রকল্পের আওতায় আসবে এবং প্রত্যেকেই কন্যাশ্রী প্রকল্পের ২৫০০০ টাকা পাবে।

Kanyashree prakalpa কন্যাশ্রী প্রকল্প

কন্যাশ্রী প্রকল্প এর প্রভাব/ success of kanyashree prakalpa

আপনি যদি মনে করেন কন্যাশ্রী প্রকল্প চালু হওয়ার পর পশ্চিম বাংলার প্রত্যেকটি কন্যা সুশিক্ষিত হয়েছে তাহলে আপনি ভুল ভাবছেন।

কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের মেয়েদের স্কুলে যাওয়ার হার এত পরিমাণ বৃদ্ধি হয়েছে যা কল্পনাতীত।

যে সমস্ত কন্যাদায়গ্রস্ত পিতামাতারা মেয়েদেরকে স্কুলে পাঠানোর চেয়ে মাঠে পাঠানোটাকে বেশি প্রাধান্য দিতেন সেই সমস্ত পিতামাতারা মেয়েদেরকে এখন স্কুলে পাঠাচ্ছেন।

কন্যাশ্রী প্রকল্প এবং রূপশ্রী প্রকল্প এই প্রকল্প চালু হওয়ার পর  পশ্চিমবাংলায় নারী শিক্ষার হার বহু শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

এই প্রকল্প চালু হওয়ার পর কমে গেছে ভ্রুণ হত্যা। বাল্যবিবাহ। কন্যা জন্ম হওয়ার পর থেকে পিতা-মাতারা ভয়ঙ্করভাবে দুশ্চিন্তায় থাকতেন পণপ্রথাকে কেন্দ্র করে। কন্যাশ্রী প্রকল্প এবং রূপশ্রী প্রকল্পের যৌথ ৫০০০০ টাকা সেই ভয়ঙ্কর দুশ্চিন্তাকে কমিয়ে দিয়েছে অনেকটা।

এখানে আপনারা হয়তো অনেকেই বলবেন যে শুধুমাত্র টাকার লোভেই পিতা-মাতারা তাদের কন্যাকে স্কুলে পাঠাচ্ছে। হয়তো আপনি এক্কেবারেই ভুল বলছেন না। কিন্তু আপনাকে একটা কথা স্বীকার করতেই হবে, শিক্ষা হচ্ছে এক ছোঁয়াচে রোগ। তাই পিতা-মাতারা যে উদ্দেশ্য নিয়েই তাদের কন্যাকে স্কুলে পাঠান না কেন কন্যারা স্বল্প পরিমাণ হলেও শিক্ষিত হতে বাধ্য থাকবে।

আরও পড়ুনঃ- অটল পেনশন যোজনা

এই প্রকল্পের দ্বিতীয় উদ্দেশ্য ছিল কন্যার পরিণত বয়স হওয়ার পর তার বিবাহ দেওয়া। এই উদ্দেশ্যে মাননীয়া সফল হয়েছেন অনেক বেশি।

যে উদ্দেশ্য নিয়ে একদিন কন্যাশ্রী প্রকল্প চালু করা হয়েছিল সেই উদ্দেশ্য সফল হওয়ার দিকেই মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী ধীর পদক্ষেপে এগিয়ে চলেছেন। একদিনে কোনও কিছুই তৈরি হয় না। এতদিনে কন্যাদের স্কুলে যাওয়ার অভ্যাস তৈরি হয়েছে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস এই স্কুলের যাওয়ার অভ্যাস আগামীদিনে কন্যাদেরকে সুশিক্ষিত গড়ে তুলতে সাহায্য করবে।

একটা সময় ছিল যখন শহরের মেয়েরাই শিক্ষিত ছেলেদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে শিক্ষার লড়াই করতো। কিন্তু আপনি যদি বিগত কয়েক বছরের মাধ্যমিক উচ্চ মাধ্যমিক রেজাল্টের দিকে তাকান তাহলে আপনি অনেক গ্রাম্য কন্যার মুখ দেখতে পাবেন।

আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি কন্যাশ্রী প্রকল্প এর পিছনে বিশেষ অবদান রেখেছে। আজকের দিনে দাঁড়িয়ে আপনার হয়তো মনে হতেই পারে এই প্রকল্পের পিছনে সরকার বহু হাজার কোটি টাকা ব্যয় করে। কিন্তু আগামী দিনে আপনি এর ফলাফল হাতেনাতে দেখতে পাবেন।

প্রসঙ্গক্রমে জানিয়ে রাখি কন্যাশ্রী প্রকল্পটি বর্তমানে বিশ্বের দরবারে বিশেষ সম্মান আদায় করেছে। যা আমাদের রাজ্য বাসীর জন্য আনন্দের এবং গর্বের। আপনি যখন কন্যাশ্রী প্রকল্প নিয়ে আলোচনা করবেন তখন আশা করি রাজনৈতিক অন্তর্দৃষ্টির বাইরে বেরিয়ে আন্তরিকভাবে আলোচনা করবেন।

রাজনৈতিক লড়াইকে আড়ালে রেখে আমরা যদি সরকার বা সরকার বিরোধী দলগুলির ভালো জিনিসকে নিয়ে আলোচনা করি তাতে আশা করি আপনাদের কারো আপত্তি থাকার কথা নয়। এই প্রকল্প সম্পর্কে যদি আপনার কিছু জানার থেকে থাকে তাহলে আপনি আমাদের কমেন্ট বক্সে জিজ্ঞাসা করতে পারেন আপনাদের প্রত্যেকটি প্রশ্নের সঠিক এবং যথাযথ উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করবো আমরা।

আরও পড়ুনঃ- aegon life insurance

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *